০৮ নভেম্বর, ২০২২ ১০:৪৬ এএম

বরগুনায় চিকিৎসক গ্রেপ্তার, বিএমএর প্রতিবাদ 

বরগুনায় চিকিৎসক গ্রেপ্তার, বিএমএর প্রতিবাদ 
বরগুনা জেলা বিএমএ সভাপতি ডা. মো. আবদুস সালাম ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. কামরুল ইসলাম চিকিৎসক গ্রেপ্তারের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: রোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বরগুনার পাথরঘাটায় চিকিৎসককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ)। সোমবার (৭ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানায় সংগঠনটি। 

বরগুনা জেলা বিএমএ সভাপতি ডা. মো. আবদুস সালাম ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. কামরুল ইসলাম এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘জনৈক রোগী চিকিৎসা সংক্রান্ত যে অভিযোগ করেছেন তার কোনো প্রকার তদন্ত বা সত্যতা যাচাই ছাড়াই পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অতি উৎসাহী হয়ে গত ৫ নভেম্বর ডা. বশিরুল আলমের মতো একজন প্রথিতযশা চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করে। এভাবে ঠুনকো অভিযোগে চিকিৎসকদের গ্রেপ্তার বা হয়রানি করলে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে এবং জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে।’

বরগুনা জেলা বিএমএর সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মো. গোলাম সরোয়ার স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে জেলা বিএমএ নেতৃবৃন্দ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কর্তব্য পালনে আরো দায়িত্বশীল আচরণ করবেন এবং পেশাদারিত্বের পরিচয় দিবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

প্রসঙ্গত, গত ২ নভেম্বর পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়কের শাপলা ক্লিনিকে সুরমা আক্তার নামে এক রোগী ভর্তি হন। পরীক্ষায় তার অ্যাপেন্ডিসাইড ধরা পড়ে। ওই দিন রাত দশটার দিকে তার অস্ত্রোপচার করেন ডা. বশির আহমেদ। অস্ত্রোপচারে অ্যাপেন্ডিসাইডের পাশে রোগীর আরেকটি টিউমার দেখতে পান তিনি।

তাৎক্ষণিকভাবে এই অস্ত্রোপচারের বাকি কাজ সম্পন্ন রোগীর স্বজনদের কাছে অন্য অপারেশনে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে রোগীকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

কিন্তু রোগী গরিব ও অসহায় উল্লেখ করে অন্যত্র স্থানান্তর করা সম্ভব নয় জানিয়ে প্রয়োজনে অন্য গাইনি সার্জন দ্বারা অস্ত্রোপচারের জন্য বারবার পীড়াপীড়ি করতে থাকেন স্বজনেরা।

এ অবস্থায় ঢাকার চিকিৎসক তরুণ কুমারের মাধ্যমে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার শুরু হয়। তবে ছোট পরিসরে অস্ত্রোপচার চালানো অসম্ভব হওয়ায় তিনিও অপারগতা প্রকাশ করে রোগীকে শেবাচিম হাসপাতালে রেফার করেন।

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের দাবি, অস্ত্রোপচার পরবর্তী সময়ে রোগীর কোনো ধরনের সমস্যা না থাকলেও ওই দিন সন্ধ্যায় রোগীর স্বজনেরা একটি অপচিকিৎসার মামলা করেন।

অন্য দিকে অস্ত্রোপচারের প্রথম সার্জন ডা. বশির আহমেদের সঙ্গে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার কথা বলবেন বলে থানায় ডেকে নেন। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এজহারে অন্য চিকিৎসক তরুণ কুমারসহ তিনজনের নাম উল্লেখ আছে। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : চিকিৎসক গ্রেপ্তার
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক